
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে চলতি মাসেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (৮ জুলাই) এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ মামলার তদন্ত করেছে তদন্ত সংস্থা। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তৎকালীন কয়েকজন মন্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২১ জুলাইয়ের পর এ প্রতিবেদন দাখিলের কথা রয়েছে। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলার তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে, তাদেরই আসামি করা হবে। এর মধ্যে শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে। ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হবে।
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে। গত ৭ জুন এ দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল।
বর্তমানে ৯ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।