ইরানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে আগুন, বিক্ষোভে উত্তাল বিভিন্ন শহর

ফানাম নিউজ
  ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২০

ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়েছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি–এর একটি ভবনে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে সংবাদ ও ইন্টারনেট যোগাযোগ সীমিত থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, চলমান আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিভিন্ন শহরে আগুন, কাঁদানে গ্যাস ও গোলাগুলির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করছে। যদিও সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অনেক হতাহতের ঘটনা সহিংস সংঘর্ষের ফল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সহিংসতা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত। ৯ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’, অর্থাৎ যে কোনো সময় হস্তক্ষেপে প্রস্তুত। এই বক্তব্যের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান না চালানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী ও সহিংসতায় জড়িতদের মধ্যে পার্থক্য করার কথা বলেন।

অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অর্থনৈতিক দুর্ভোগের কথা স্বীকার করলেও চলমান সহিংসতার জন্য বহিরাগত শক্তিকে দায়ী করেছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিদেশি সংশ্লিষ্ট উসকানিদাতা সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি ইরানজুড়ে কার্যত ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে জার্মানি ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও দেশটিতে কঠোর দমননীতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়