নতুন মন্ত্রিসভায় প্রবীণ ও দক্ষ নেতৃত্বের সমন্বয় প্রত্যাশা

ফানাম নিউজ
  ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৭

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। তার সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বড় প্রশ্ন হলো, নতুন মন্ত্রিসভা কত সদস্যের হবে এবং কারা এতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশিত হলেও, বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রের মতে এসব তালিকার পুরোপুরি সত্যতা নেই।

সূত্রগুলো বলছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার হবে ৩৫–৩৭ জনের মধ্যে। এর মধ্যে ২৬–২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ৯–১০ জন প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন। শেষ মুহূর্তে আরও একজন বা দুজন যোগ হতে পারেন। ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভা ছিল ৬০ সদস্যের, যা তখন সমালোচিত হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব এবার ছোট মন্ত্রিসভা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে প্রবীণ-নবীন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তারেক রহমান মন্ত্রিসভা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিজেই প্রধান ভূমিকা পালন করছেন, যদিও দলের স্থায়ী কমিটির একজন নেতাও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।

বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য গঠন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। প্রবীণ ও দক্ষ নেতাদের মধ্যে সম্ভাব্য নামগুলোতে রয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটি ও জোটভুক্ত দলের নেতা, তরুণ নেতা, জেলা পর্যায়ের নেতা এবং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরও মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। অন্যান্য সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে আছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ওসমান ফারুক।

পূর্বের অভিজ্ঞতা ও সমালোচনা

২০০১–২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, নৌপরিবহন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়গুলোতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রকল্প ব্যর্থতার অভিযোগ বেশি ছিল।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়: উৎপাদন ব্যবস্থা না রেখে সঞ্চালন লাইন বসানো হয়েছিল, যা সেসময় ব্যাপক আলোচনায় আসে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে তৎকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছিল বলে সমালোচনা ছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: র‌্যাব গঠন সত্ত্বেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত: তৎকালীন সময়ে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগও ছিল গুরুতর।

নৌপরিবহন ও যোগাযোগ: প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থায়ন প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে, এমন আলোচনাও ছিল জোরেশোরে।

তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অতীত অভিজ্ঞতাগুলো এবার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে দক্ষ ও সৎ নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপের কারণ হতে পারে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি ১৯ বছর পর ক্ষমতায় এসেছে। তারেক রহমান ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী বাংলাদেশের পুনর্গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। জাতীয় ঐক্যের প্রতি গুরুত্ব আরোপ, প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি না করা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ—এসব পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

সরকার গঠনের প্রাথমিক সময়ে অর্থনৈতিক ‘সিগন্যালিং’ দেওয়া জরুরি। মন্ত্রিসভা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা থাকবেন, তাদের দক্ষতা বাস্তবভিত্তিক সংকেত হিসেবে কাজ করবে।

চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

নির্বাচনী ইশতেহারে তারেক রহমান আইনের শাসন ও নাগরিক সেবা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, পুনর্বাসনমূলক পদক্ষেপ এবং ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে সৎ, দক্ষ ও দূরদর্শী ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় রাখা অপরিহার্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন মন্ত্রিসভার দক্ষতা ও চরিত্রই সরকারের কার্যকারিতা ও জনমত নির্ধারণ করবে। নির্বাচনী প্রচার এবং ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বারবার ঘোষণা করা বিএনপির প্রতিশ্রুতি মন্ত্রিসভার গঠনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভা ছোট হবে, ৩৫–৩৭ জনের মধ্যে। প্রবীণ ও নবীন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হবে। রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক দক্ষতার মাধ্যমে পুরনো ভুলগুলি না করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়