দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ফানাম নিউজ
  ১০ মার্চ ২০২৬, ১৪:৪৩

নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় শুরু হয়। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতি পরিবারের একজন নারী প্রধানের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের এই নতুন কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। সরাসরি উপকারভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ না থাকে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান; সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, এমপি ও কূটনীতিকরাও ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির নতুন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল যেন সব মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়— সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণ করা হয়নি; সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নগদ ভাতার পাশাপাশি সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময়ে জনগণের কাছে বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান অঙ্গীকার করেছিলেন যে, তার দল জনগণের ম্যান্ডেট পেলে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে। আজকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনাব তারেক রহমান তার সেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। ফ্যামিলি কার্ড সার্বজনিন। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। এর আওতায় প্রতি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৪টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করতে জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। তারা সরেজমিনে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন এবং গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করা হয় এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

ফ্যামিলি কার্ডে স্পর্শবিহীন চিপ, কিউআর কোড ও নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে কার্ডটি নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। সাধারণত পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে। সদস্যসংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এদিকে এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেলঘাট গ্রামের ৬০০টির বেশি নারীপ্রধান পরিবার প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে। নির্বাচিত প্রত্যেক পরিবারপ্রধান নারীকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

সুবিধাভোগী আনোয়ারা বেগম নামে একজন আরটিএনএনকে বলেন, আগের সরকারে কার্ড পাওয়ার চেষ্টা করেও পাননি। এবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে আমরা খুশি।

আরেক সুবিধাভোগী সাবানা বেগম বলেন, এই সহায়তা পেলে সংসারের খরচ চালাতে অনেকটা স্বস্তি মিলবে।

সরকারের আশা, পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচি সফল হলে তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের পটিয়া এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সুনামগঞ্জের দিরাইতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন।

এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও বিতরণ করা হচ্ছে এই কার্ড।

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়