
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে গিয়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, ডিম ও মুরগির দাম বেড়েছে। মাছের বাজারেও চড়া দাম বিরাজ করছে। তবে সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে ২৮-পাইজাম চালের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা। এ ছাড়া নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এসব চাল ৭০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের পর বেড়েছে ডিমের দামও। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজনে ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং হাঁসের ডিমের ডজন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। আকারভেদে রুই ও কাতলা মাছ প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৈ মাছ ২৪০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, ছোট মাছ ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে।
অন্যদিকে, সবজির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। পেঁপে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চারটি কাঁচা কলার দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
এ ছাড়া করলা, ধুন্দল, কাঁকরোল, মুলা, বরবটি, লতি, ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢেঁড়সের মতো কয়েকটি সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু ও মিষ্টিকুমড়ার দাম রয়েছে ২৫ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলও আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, একটি পণ্যের বাড়তি দামের চাপ সামলাতে না সামলাতেই অন্য পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, শীতের মৌসুম আসছে। এ সময়ে সবজির দাম কম থাকার কথা থাকলেও এখনো দাম আশানুরূপ কমেনি। এর মধ্যে চাল, ডিম ও মুরগির দাম বেড়েছে। বিক্রেতাদের কাছে দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তাঁরা পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কথা বলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সবজি বিক্রেতা বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবজির দামেও এর প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি শীতকালীন নতুন সবজি এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে আসেনি। আগের মৌসুমের সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেশি রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।
বিক্রেতাদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে। তবে ক্রেতারা বলছেন, একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় তাঁদের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাঁদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি, সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।