
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। সমুদ্রের ঢেউ, বালুকাবেলায় ঘোরাঘুরি আর প্রিয়জনদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৈকতনগরীতে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠেছে সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো। তবে সম্প্রতি উখিয়ার একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ানো হয়েছে প্রশাসনের নজরদারি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর সকালে শহরের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী সৈকত পয়েন্টে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। এদিন বিকেলে লাবণী পয়েন্টে দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে।
সৈকতে কেউ পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ে মেতে উঠছেন আনন্দে। উৎসবের আমেজ আর ছুটির আনন্দে সৈকতজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত পরিবেশ।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে এসেছেন পর্যটক নিতাই শর্মা। তিনি বলেন, কক্সবাজার তাঁর পছন্দের জায়গা। দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন দেখার পাশাপাশি পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরির সুযোগও হয়েছে। আবহাওয়া ও সার্বিক পরিবেশ তাঁর কাছে বেশ ভালো লাগছে।
চট্টগ্রাম থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসা মামুন ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে সমুদ্রের সামনে দাঁড়ালে অন্য রকম অনুভূতি হয়। সকাল-বিকেল সৈকতে ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা আর ঢেউ দেখেই ছুটির সময় কাটছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আশা, পাঁচ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পাঁচ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে। এরই মধ্যে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে লক্ষাধিক পর্যটক আসতে পারেন বলে তাঁরা আশা করছেন। শহরের অধিকাংশ হোটেল-মোটেল পর্যটকে পরিপূর্ণ। পর্যটকদের সেবায় যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, সে জন্য সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের সমুদ্রস্নান নিরাপদ করতে ব্যস্ত পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা। উদ্ধারকর্মীরা পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নির্ধারিত এলাকায় গোসল এবং লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সি-সেইফের উদ্ধারকর্মী মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, সাগরে নামার সময় পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে। লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত এলাকায় গোসল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর বাড়তি নজরদারি
গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ অহিদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমুদ্রসৈকতসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের দল দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটনশিল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়া বা তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে কি না, পাশাপাশি আবাসনের ক্ষেত্রে কোনো অব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না, সেসব বিষয় নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
ছুটির মৌসুমে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায় গতি ফিরেছে। তবে আনন্দময় ভ্রমণের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দেওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।