রাশিয়া ও চীনকে ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ দরকার: ট্রাম্প

ফানাম নিউজ
  ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৮

রাশিয়া ও চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করা থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ওই ভূখণ্ডের ‘মালিকানা’ প্রয়োজন—এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, শুধু ইজারা বা চুক্তি যথেষ্ট নয়, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা থাকতে হয়।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো ভূখণ্ড রক্ষা করতে হলে তার মালিক হতে হয়। ইজারা দিয়ে তা হয় না। আর আমাদের গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতেই হবে।’ তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘এটা সহজ উপায়ে অথবা কঠিন উপায়ে করা হবে।’

হোয়াইট হাউস সম্প্রতি জানিয়েছে, ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের অধীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটি কেনার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসন বিবেচনা করছে। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনাও নাকচ করা হয়নি।

তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় পক্ষই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অঞ্চলটি বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্কের মতে, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর জন্য মারাত্মক সংকট তৈরি করবে।

বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি হলেও কৌশলগত অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব অনেক। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা স্থাপন এবং আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নজরদারিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। প্রমাণ ছাড়াই তিনি বলেছেন, অঞ্চলটি রাশিয়া ও চীনের জাহাজে ঘিরে আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি চীনের জনগণকে ভালোবাসি, রাশিয়ার জনগণকেও ভালোবাসি। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডে আমি তাদের প্রতিবেশী হিসেবে চাই না—এটা হবে না। ন্যাটোকেও এটা বুঝতে হবে।’

গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনের বেশি সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে এই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সেখানে আরও সেনা মোতায়েন করতে পারে। তবে ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ইজারা চুক্তি যথেষ্ট নয়—মালিকানা থাকতে হয়।’

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইউরোপের প্রধান দেশগুলো ও কানাডাসহ ডেনমার্কের ন্যাটো মিত্ররা একযোগে ডেনমার্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়া অন্য কেউ তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সীমান্তের অগ্রাহ্যযোগ্যতার নীতিমালা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ—বিশেষ করে বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম ও লোহা—নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে যাওয়ায় এসব সম্পদে প্রবেশাধিকার সহজ হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেখানে উল্লেখযোগ্য তেল ও গ্যাসের মজুতও থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নিজের প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তখনও ডেনমার্ক জানিয়ে দিয়েছিল, অঞ্চলটি বিক্রির জন্য নয়। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ডেনমার্কের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়