স্বৈরাচার ও একটি দলের ষড়যন্ত্রে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

ফানাম নিউজ
  ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৭

স্বৈরাচার ও একটি দল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে কিছু দল নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন, তখন এসব অপতৎপরতা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, কিছু দল নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মসূচি যারা দেয়, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না। জনগণের উন্নয়ন হচ্ছে—এটি কিছু দল সহ্য করতে পারছে না। তারা চায় না, সরকারের নেওয়া জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হোক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে যারা টিকিট বিক্রি করেছিল, তারা এবং সীমান্তের ওপারে থাকা পলাতক শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এক হয়েছে। জনগণের উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, একটি দল ১৯৭১ সাল থেকে যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই দেশকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ১৯৭১ সালে যেমন ধোঁকা দিয়েছে, ২০২৪ সালেও তেমন ধোঁকা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনেকে মুখে ২০২৪ সালের চেতনাকে ধারণ করার কথা বললেও অন্তরে তা ধারণ করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান—দুটিকেই ধারণ করে। যারা দেশ গড়ার নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা দেশকেও বিশ্বাস করে না। দেশের ভাগ্য বিদেশ থেকে কেউ এসে গড়ে দেবে না; নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই গড়তে হবে।

আগামী পাঁচ বছরও জনগণকে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনে যেভাবে জনগণ পাশে দাঁড়িয়েছিল, আগামী দিনগুলোতেও সেভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতে সরকারের পরিকল্পনা

জনসভায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের ৩৮ হাজার আখচাষিকে আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এ কারণে কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, চলতি বছরে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। গত আট মাসে সারাদেশে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সারাদেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

শিল্প খাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ এবং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সরকার কাজ করছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়