যুবকদের কর্মমুখী করতে হবে, রাজনৈতিক বিপ্লবের পাশাপাশি দেশও গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি

ফানাম নিউজ
  ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২১:২৪

যুবসমাজকে দেশের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে যুবকদের হাতে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তুলে দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তন আনলেই হবে না, পাশাপাশি দেশ গঠনেও সমান ভূমিকা রাখতে হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখন দেশ নির্মাণের সংগ্রাম শুরু হয়েছে। ‘বিল্ড দিস কান্ট্রি, বিল্ড দিস নেশন’—দেশ ও জাতি গঠনে যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

যুবসমাজের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ। এই জনসংখ্যাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা হিসেবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ সাফল্য অর্জন করতে পারবে। যুবকরাই ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান কারিগর।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জন্য দেশের সক্ষমতা অর্জন জরুরি। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পথে যুবসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার যুবকদের দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই লক্ষ্য সামনে রেখে যুবকদের কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও যুবসমাজের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।

যুব উদ্যোক্তাদের কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্টল ঘুরে তিনি তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের কাজ দেখে আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছেন। স্বল্প পুঁজিতে পণ্য তৈরি করে তারা বিদেশে রপ্তানি করছেন এবং বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তা খাবার ও মিষ্টি তৈরি করে আয় করছেন। সেই আয় দিয়ে পরিবারকে সহায়তা করার পাশাপাশি মেয়েকে বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

দেশের বেকারত্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজ এলাকায় গেলে তরুণদের বেশির ভাগই চাকরির জন্য আবেদন করতে দেখেন। এমনকি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তরুণরা কাজ পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি বলেন, যুব অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ, ঋণ ও অন্যান্য কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বেকারত্ব কমিয়ে আত্মনির্ভরশীলতা ও স্ব-কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মূলধন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বড় কোম্পানির পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও ঋণ ও সহায়তা দিতে হবে। এতে তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এখন পার্লামেন্টকেন্দ্রিক রাজনীতি হওয়া উচিত এবং সংসদের মধ্য দিয়েই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে হবে।

শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে প্রয়োজনভিত্তিক ও বাস্তবমুখী। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেও অনেকে চাকরি পাচ্ছেন না। অথচ কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে কাজ করে রেমিট্যান্স পাঠান, যা দেশের আয়ের অন্যতম উৎস। দক্ষ ও শিক্ষিত শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং আয় বাড়বে।

যুবকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা কখনোই হতাশ হতে পারি না। আমরা হতাশ জাতি নই। আমরা সব সময় লড়াই করি, সংগ্রাম করি। এই সংগ্রাম আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে আয়োজিত যুব কনভেনশন এবং যুব মন্ত্রণালয়, যুব অধিদপ্তর ও যুব কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়