
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংবিধানের দোহাই দিয়েই দীর্ঘদিন মানুষের ওপর জুলুম করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি দলের ভাই ও বন্ধুরা এখন সংবিধানের কথা বলছেন। অথচ তারাও একসময় মজলুম ছিলেন, আমরাও ছিলাম। আমাদের ওপর ওই সংবিধানের দোহাই দিয়েই জুলুম করা হয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এই সংবিধান পরিবর্তনের কথা তিনি নিজেই বলেছিলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান বহু আগেই পরিবর্তিত হয়েছে এবং তা বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভয়ের সংস্কৃতি সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক—সব দিক থেকেই আমরা তলানিতে নেমে গিয়েছিলাম। এখন জাতি উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজে এখনো অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, সংকীর্ণতা ও প্রতিহিংসার প্রভাব রয়ে গেছে। রাজনীতিবিদদের কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকায় মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কথা ও কাজে মিল রেখে জাতির আস্থা অর্জন করতে না পারলে একটি ভালো জাতি গঠন সম্ভব নয়। এই দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আমরা দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের কথা বলেছিলাম। জনগণ সাড়া দিয়েছে, তবে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবুও আমরা ইতিবাচক রাজনীতির স্বার্থে নির্বাচন তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করিনি।
রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নেই, তবে ব্যক্তিকে আলাদা করে মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি সরকারকে এ বিষয়ে জাতিকে স্বস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটে বিপুল ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় সিলেটের সাংবাদিকদের পাশাপাশি জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।