সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল
ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণার পরিবর্তে সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সম্প্রতি কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে দেখছে না। তাঁর ভাষায়, বিএনপির উদ্দেশ্য হলো—সব ধর্মের, সব বিশ্বাসের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে এবং নাগরিক হিসেবে তাদের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় অংশ মুসলমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি দেশের রাজনীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত হলে কোনো সমস্যা দেখেন না তিনি।
সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় বিএনপির ভূমিকা সবচেয়ে ভালো বলে দাবি করেন দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় কিছু সহিংসতা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো সাম্প্রদায়িক নয়—সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। ভারতীয় গণমাধ্যম বিষয়গুলোকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়কে সংখ্যালঘুদের জন্য ‘বিপজ্জনক সময়’ বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ তুললে মির্জা ফখরুল তা নাকচ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য তিনি দেখেননি এবং সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের কথাও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান ইতিমধ্যেই জাতির সামনে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার দিন মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা বহু দুর্নীতির মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, সেগুলো সবই শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছিল এবং কোনো অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি।
দলীয় নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছরে বিএনপির অনেক নেতা–কর্মীর জমি, দোকান ও ব্যবসা দখল হয়ে গিয়েছিল। সেগুলো ফিরে পাওয়ার পর কিছু অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, পরিবর্তনের সময় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে, যা প্রতিটি দেশেই দেখা যায়।
আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন অগণতান্ত্রিক হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র ও আন্দোলনকারীদের হত্যা করেছে, তাদের বিচারের দাবি স্বাভাবিক। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন বলেও জানান।
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার চেষ্টা করবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন সম্ভব। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি একে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।