
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনকে ‘ভোট চুরির পরিকল্পনা’ আখ্যা দিয়ে এটি বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার ইসি ঘেরাও করার আল্টিমেটাম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন আবারও জুলাইয়ের মতো অন্ধকার গলিপথে হাঁটছে। সন্ধ্যার মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধের এই প্রজ্ঞাপন বাতিল না হলে মঙ্গলবার ইসি ঘেরাও করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ পক্ষ পরাজয়ের ভয়ে ভোট ছিনতাইয়ের পাঁয়তারা করছে এবং প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি তাদের সহায়তা দিচ্ছে। কারচুপির চেষ্টা করা হলে দেশে আবারও গণ-অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি তৈরির সতর্কবার্তা দেন তিনি।
ঢাকা-১১ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মোহাম্মদপুর এক জনসভায় এই প্রজ্ঞাপনকে ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট’ করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, কার পরিকল্পনা মোতাবেক ইসি কাজ করছে তা জনগণের কাছে স্পষ্ট। দিনের আলো থাকতে থাকতে এই বিধি পরিবর্তন না করলে কাল আমরা ইসি ঘেরাও করব। তিনি আরও যোগ করেন, পক্ষপাতিত্ব করলে এই কমিশনের পরিণতি আগের ফ্যাসিবাদের আমলের কমিশনের চেয়েও ভয়াবহ হবে।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো ভোটারদের ফোন বাড়িতে রেখে আসতে বাধ্য করা।
প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার সকালেপ্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার সকালে
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধে বিতর্কের ঝড়ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধে বিতর্কের ঝড়
দু’জনেই মনে করেন, এর ফলে ‘মোজো সাংবাদিকতা’ বা ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বন্ধ হয়ে যাবে। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম হলে ভোটাররা তাৎক্ষণিক ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন না। সিসি ক্যামেরা থাকলেও তা মোবাইল ক্যামেরার মতো তাৎক্ষণিক কার্যকর নয়।
উল্লেখ্য, গত রোববার ইসি জানায়, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ ইনচার্জ এবং নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য ছাড়া আর কেউ কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন না। এই নির্দেশনার ফলে সাংবাদিক এবং সাধারণ ভোটারদের তথ্য অধিকার খর্ব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নাহিদ ইসলাম জানান, তাদের প্রতিনিধি দল আজই নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে। যদি দাবি আদায় না হয়, তবে মঙ্গলবার থেকেই বড় ধরনের রাজপথের কর্মসূচি শুরু হতে পারে।