ইতিহাসের পাতায় মির্জা ফখরুল

ফানাম নিউজ
  ২২ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৫

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ পড়ানো হয়।

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিটের দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহর বঙ্গভবনে প্রবেশ করে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি দরবার হলে নির্ধারিত মঞ্চে আসেন।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিচারপতি, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, অনুষ্ঠানে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যেই একই দিনে মন্ত্রিসভায়ও আসে বড় পরিবর্তন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ড. আবদুল মঈন খান। রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে দেওয়া হয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব। এ মন্ত্রণালয়ের আগের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) দায়িত্ব পান খাদ্য মন্ত্রণালয়ের।

এ ছাড়া বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে টেকনোক্রেট হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শামা ওবায়েদ ইসলামও। ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্জাতিক অভিনন্দন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড।

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু অভিনন্দন বার্তায় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনজীবনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় সফল ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি দুই দেশের সাম্প্রতিক ইতিবাচক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চীনও উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, নতুন যুগে দুই দেশের জন্য অংশীদারত্বমূলক ভবিষ্যৎ গঠনে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত তারা।

এদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এসব দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে। একই সঙ্গে তার রাষ্ট্রপতি হওয়াকে ঘিরে নতুন মন্ত্রিসভা বিন্যাস এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিনন্দনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়